মডিউল-১

মডিউল-১, সেশন-২ঃ ফার্মাসিস্ট কোড অব ইথিকস এবং মডেল মেডিসিন শপে গ্রেড ‘সি’ ফার্মাসিস্টদের (ফার্মেসি টেকনিশিয়ান) দায়িত্ব ও কর্তব্য

মডিউল-২

মডিউল-৪

মডিউল-৪, সেশন-৩ঃ ওষুধ প্রয়োগের পথ

মডিউল-৫

মডিউল-৫, সেশন-২ঃ শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই ক্রেতার নিকট বিক্রয়যোগ্য ওষুধসমূহ (Prescription Only Medicines)

মডিউল-৭

মডিউল-৭, সেশন-২ঃ এ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকর হওয়া যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে

মডিউল-৮

মডিউল-৮, সেশন-২ঃ করোনা সংক্রমণকালীন নিরাপদ ওষুধ ডিসপেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ

লেসন-৮ঃ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (Central Nervous System) ওষুধসমূহ

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (Central Nervous System) ওষুধসমূহ

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (Central Nervous System) ওষুধসমূহ

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওষুধসমূহ হলো সেগুলো যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র যথা: ব্রেইন (Brain), স্পাইনাল কর্ড (Spinal cord)-কে প্রভাবিত করে ও সাড়া জাগায় যা ব্যবহার করে কোন নির্দিষ্ট শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা করা বা শারীরিক কষ্ট লাঘব করা হয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কতকগুলো ওষুধের উদাহরণ হলো – হিপনোটিকস, এ্যানজিওলাইটিকস, মানসিক অসুস্থতায় যে সকল ওষুধ ব্যবহৃত হয়, পারকিনসনিজম রোগে যে সকল ওষুধ ব্যবহৃত হয়, এপিলেপসি রোগে যে সকল ওষুধ ব্যবহৃত হয় এবং অবসাদগ্রস্ততা উপশমকারী (Antidepressant) ওষুধ।

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওষুধসমূহের শ্রেণিবিভাগ

১। হিপনোটিকস ও এ্যানজিওলাইটিকস: বেনজোডায়জেপিন, ব্রোমাজেপাম,  ডায়াজিপাম, লরাজিপাম ইত্যাদি;

২। মানসিক অসুস্থতায় ব্যবহৃত ওষুধ: ফ্লুপেনটিক্সল, ক্লোজাপিন, রিসপেরিডোন, হ্যালোপেরিডল ইত্যাদি;

৩। অবসাদগ্রস্ততা উপশমকারী (Antidepressant) ওষুধ: এমিট্রিপটাইলিন, ফ্লুওক্সেটিন, ফেনেলজিন ইত্যাদি;

৪। মাদকাসক্তি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ: বিউপ্রোপিত্তন;

৫। ব্যথানাশক-

Opioids: মরফিন, পেথিডিন, ট্রামাডল ইত্যাদি;

Non-Opioids: প্যারাসিটামল, এসিটাইল স্যালিসাইলিক এসিড ইত্যাদি;

স্নায়ুর ব্যথায় ব্যবহৃত ওষুধ: কার্বামাজেপিন, এমিট্রিপটালিন ইত্যাদি;

মাইগ্রেন-এ ব্যবহৃত ওষুধ: মেটোক্লোরপ্রামাইড, ফেনোথায়াজিন ইত্যাদি;

৬। এপিলেপসিতে ব্যবহৃত ওষুধ: কার্বামাজেপিন, ক্লোনাজেপাম, গাবাপেনটিন ইত্যাদি;

৭। পারকিনসনিজম এ ব্যবহৃত ওষুধ: লিভোডোপা, অ্যামানটাডিন;

৮। পেটের মাংসপেশীর আকস্মিক ব্যথায় ব্যবহৃত ওষুধ: হাইওসিন, টাইমোনিয়াম;

৯। বমি, বমি ভাব ও মাথা ঘোরানোর ওষুধ: ডমপেরিডন, প্রোমেথাজিন, মেটোক্লোপরামাইড, ফেনোথায়াজিন, সিনারিজন, অনডানসেট্রোন ইত্যাদি;

১০। স্থুলতা চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ: ফ্লুওক্সোটিন;

১১। স্মৃতিভ্রংশে ব্যবহৃত ওষুধ: রিভাস্টিনামিন, গ্যালানটামিন, ডোনেপেজিল ইত্যাদি

নির্দেশনা

  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে ব্যবহৃত ওষুধসমূহ মূলত: সমস্যার ধরন ও তীব্রতার উপর ভিত্তি করে ব্যবহৃত হয়;
  • এ ধরনের ওষুধ শুধুমাত্র ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।

যেভাবে বাজারে পাওয়া যায়

  • সলিড আকারে (ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, পিএফএস) মুখে ব্যবহারের জন্য;
  • তরল আকারে (সিরাপ, সাসপেনশন) মুখে খাওয়ার জন্য;
  • শিরায় ও মাংসপেশীতে ব্যবহারের জন্য ইনজেকশন;

প্রয়োগের পথ

  • মুখে;
  • শিরাপথে ও মাংসপেশীতে ইনজেকশনের মাধ্যমে;

বিরুদ্ধ ব্যবহার (Contraindications)

  • অতিসংবেদনশীলতা, ওষুধ নির্ভরতা;
  • গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালীন সময়ে জপলিকোন ব্যবহার না করা উচিত;
  • জলপেডাম টারট্রেট ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে, তীব্র শ্বাসকষ্টে, অস্থায়ী মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস, লিভারের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, মানসিক অসুস্থতা, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালীন সময়ে ব্যবহার করা যাবে না;
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বিষণ্ণতা, গুলুকোমা, পারকিনসনিজম, জন্ডিস, লিভারের রোগ, বোনম্যারো বিষণ্ণতা ইত্যাদি অবস্থায় ক্লোরপ্রোমাজিন ব্যবহার করা যাবে না;
  • বিষণ্ণতা, যে সকল রোগী কার্বামোজেপিন, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওষুধ, লিভার বা কিডনির ওষুধ, এপিলেপসির ওষুধ গ্রহণ করছে এবং গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালীন সময়ে ক্লোজাপিন ব্যবহার করা যাবে না;
  • পারকিনসনিজম, লিভারের রোগ, স্নায়ুর ম্যালিগনেন্সির ক্ষেত্রে ফ্লুপেনটিক্সল ব্যবহার করা যাবে না;

সতর্কতা

  • এপিলেপসি, কনকারেন্ট ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপি, বাতিকগ্রস্ততা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস মেলাইটাস, গুলুকোমা, ব্লিডিং ডিজঅর্ডার, লিভার ও কিডনির সমস্যা, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালীন সময়ে এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। গর্ভাবস্থায় এ্যালিভারিন সাইট্রেট ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে;
  • জ্ঞাত সংবেদনশীলতা, ১৫ বছরের নিচের বয়সী রোগী, পুরনো কিডনি রোগী, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ, গুলুকোমা এ সকল ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারের সতর্ক হতে হবে। গর্ভাবস্থায় স্তন্যদানকালীন সময়ে এবং বাচ্চাদের বেলায় ট্রাইমবিউটিন ম্যালিয়েট ব্যবহারে অতি সতর্ক হতে হবে;
    মাইওকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা অস্থিতিশীল হৃদরোগ, এপিলেপসি, বাতিকগ্রস্ততা, গুলুকোমা, লিভার ও কিডনি রোগে সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে।

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া

  • বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, তন্দ্রাভাব;
  • শ্বাসকষ্ট, হাইপোটেনশন, ঘাম হওয়া, মুখে শুষ্কভাব হওয়া, মাথা ব্যথা, মুখ লাল হওয়া;
  • মাথা ঘোরা, টাকিকার্ডিয়া, ব্র্যাডিকার্ডিয়া, বুক ধড়ফড় করা, হ্যালুসিনেশন, ডিসফোরিয়া, পোস্চুরাল হাইপোটেনশন, মাইডাসিস, মেজাজ পরিবর্তন, ইউরেটেরিক বা বিলিয়ারি স্পাজম, তীব্র নির্ভরতা (Severe dependence) এবং ওষুধের প্রতি সহ্যশক্তি (Drug tolerance) বেড়ে যাওয়া;

সংরক্ষণ

এই ধরনের ওষুধ ফর্ম/ডোজেস ফরম ও ওষুধের বাক্সে প্রদত্ত লিফলেট/বিবরণীপত্রে নির্দেশিত নিয়মে সংরক্ষণ করা উচিত।