মডিউল-১

মডিউল-১, সেশন-২ঃ ফার্মাসিস্ট কোড অব ইথিকস এবং মডেল মেডিসিন শপে গ্রেড ‘সি’ ফার্মাসিস্টদের (ফার্মেসি টেকনিশিয়ান) দায়িত্ব ও কর্তব্য

মডিউল-২

মডিউল-৪

মডিউল-৪, সেশন-৩ঃ ওষুধ প্রয়োগের পথ

মডিউল-৫

মডিউল-৫, সেশন-২ঃ শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই ক্রেতার নিকট বিক্রয়যোগ্য ওষুধসমূহ (Prescription Only Medicines)

মডিউল-৭

মডিউল-৭, সেশন-২ঃ এ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকর হওয়া যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে

মডিউল-৮

মডিউল-৮, সেশন-২ঃ করোনা সংক্রমণকালীন নিরাপদ ওষুধ ডিসপেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ

লেসন-৪ঃ মাদকাসক্তি ও ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব ও কর্তব্য

মাদকাসক্তি ও ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব ও কর্তব্য

মাদকাসক্তি আমাদের দেশের যুব সমাজের একটি বড় সমস্যা। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা হচ্ছে মাদক সামগ্রীর সহজলভ্যতা। এসব সামগ্রী মাদক সেবনকারিরা কখনও কখনও ফার্মাসিস্টের অজ্ঞাতেই ওষুধের দোকান থেকেই পেয়ে থাকে। আমাদের দেশে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ ডিসপেন্সিং ও পরিবেশনে সত্যিকারের কোন বাঁধাধরা নিয়ম মেনে চলা হয় না। বাংলাদেশে মূলত ফার্মেসী কাউন্সিলের আওতাধীন বি-গ্রেড ফার্মাসিস্ট ও সি-গ্রেড ফার্মাসিস্টরা (ফার্মেসী টেকনিশিয়ান) বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ফার্মেসীতে কর্মরত অবস্থায় ওষুধ ডিসপেন্সিং ও বন্টনে জড়িত থাকেন। যাদের সঠিক ট্রেনিং রয়েছে তারা মাদক ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধসমূহ যৌক্তিক নিয়ম মেনে ডিসপেন্সিং ও বন্টন করে থাকেন। কিন্তু কেউ কেউ ফার্মাসিস্টের নৈতিকতার বাইরে গিয়ে অধিক মুনাফা লাভের জন্য নিয়মনীতি না মেনে মাদক ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধসমূহ বিক্রি কওে থাকেন। এটা ফার্মাসিস্টদের কাছ থেকে কখনই কাম্য নয়।

মাদক ওষুধ হলো সেগুলো যা প্রয়োগ বা সেবন করলে খুব দ্রæত মাত্রায় তার ওপর নির্ভরতা চলে আসে। আর নিয়ন্ত্রিত ওষুধ হচ্ছে মাদক ওষুধের ন্যায় আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (CNS) ওপর কাজ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ফলে সেই ওষুধের প্রতি নির্ভরতা তৈরি করে।
বাংলাদেশে মাদক ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধের উৎপাদন, ডিসপেন্সিং ও বিক্রি “মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০” (Narcotic Control Act, 1990) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই আইনের মাধ্যমে মাদক ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধসমূহ আমদানি, রপ্তানি, প্রস্তুত, সরবরাহ, মজুদ, বন্টন, ডিসপেন্সিং, ব্যবস্থাপত্র প্রদান, চিকিৎসা ও এতদ্সংক্রান্ত সব নথি সংরক্ষণ করতে হয়। এই আইন অনুযায়ী মাদক ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধসমূহকে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী শ্রেণীভুক্ত ওষুধগুলোর আমদানি, রপ্তানি, প্রস্তুত, সরবরাহ, মজুদ, বন্টন, ডিসপেন্সিং, ব্যবস্থাপত্র প্রদান, চিকিৎসা ও এতদ্সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ ইত্যাদিতে কোন ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় শাস্তি দেয়া বা জরিমানা করা হয়ে থাকে। এই শ্রেণীগুলো হলো-

(১) ক্লাস-এ ওষুধসমূূহ

(২) ক্লাস-বি ওষুধসমূূহ এবং

(৩) ক্লাস-সি ওষুধসমূূহ

মাদক ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধ সংরক্ষণ ও ডিসপেন্সিং-এ ফার্মাসিস্টের ভূমিকা

  • ফার্মাসিষ্টের অধীনে হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মডেল মেডিসিন শপে নিরাপদ জায়গায় তালা-চাবি দিয়ে ক্লাস-এ ও ক্লাস-বি মাদক ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধ রাখতে হবে;
  • মাদক ওষুধ ডিসপেন্সিং করার সময় ব্যবস্থাপত্রের ওপর বিক্রয়কারী বা ডিসপেন্সিং ফার্মাসিস্টের নাম, ঠিকানা ও ডিসপেন্সিং এর তারিখসহ সকল তথ্য প্রদান করতে হবে। উল্লেখ্য যে, মাদক ওষুধের জন্য চিকিৎসক আলাদা নির্ধারিত ব্যবস্থাপত্র ব্যবহার করবেন;
  • ১৯৯০ সালের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ (Narcotic Control Act, 1990)-এর ধারা ১৩ (৩) অনুযায়ী মাদক ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ফার্মাসিস্ট একটি ব্যবস্থাপত্রের অধীনে একবারের বেশি ডিসপেন্স করতে পারবেন না;
  • এই আইন অনুযায়ী সকল মডেল মেডিসিন শপে ক্লাস-এ, ক্লাস-বি ও মানসিক রোগ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধসমূহের ডিসপেন্স সংক্রান্ত সকল তথ্য একটি রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ রাখতে হবে এবং সেখানে ব্যবস্থাপত্র প্রদানকারীর নাম ও ঠিকানা, রোগীর নাম ও ঠিকানা, ওষুধের নাম ও পরিমাণ ডিসপেন্সিং এর তারিখসহ লিপিবদ্ধ করতে হবে। (সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা নিয়মিত পরিদর্শনের পর এই তালিকায় স্বাক্ষর দিয়ে থাকেন);
  • যদি ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখিত কোন তথ্য অসম্পূর্ণ থাকে তাহলে ফার্মাসিস্ট কোন অবস্থাতেই রোগীকে ওষুধ প্রদান করতে পারবে না;

উপরে উল্লিখিত তথ্যগুলো শুধু জানার জন্য, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক যাদের মাদক/ নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বহন, ডিসপেন্স করার অনুমতি নেই তাদের প্র্যাকটিসের জন্য নয়।