মডিউল-১

মডিউল-১, সেশন-২ঃ ফার্মাসিস্ট কোড অব ইথিকস এবং মডেল মেডিসিন শপে গ্রেড ‘সি’ ফার্মাসিস্টদের (ফার্মেসি টেকনিশিয়ান) দায়িত্ব ও কর্তব্য

মডিউল-২

মডিউল-৪

মডিউল-৪, সেশন-৩ঃ ওষুধ প্রয়োগের পথ

মডিউল-৫

মডিউল-৫, সেশন-২ঃ শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই ক্রেতার নিকট বিক্রয়যোগ্য ওষুধসমূহ (Prescription Only Medicines)

মডিউল-৭

মডিউল-৭, সেশন-২ঃ এ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকর হওয়া যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে

মডিউল-৮

মডিউল-৮, সেশন-২ঃ করোনা সংক্রমণকালীন নিরাপদ ওষুধ ডিসপেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ

লেসন-৩ঃ সক্রিয় শ্রবণ, কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা, কার্যকর যোগাযোগের বাধা দূরীকরণের উপায় এবং দুর্বল যোগাযোগের ফলাফল

সক্রিয় শ্রবণ, কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা, কার্যকর যোগাযোগের বাধা দূরীকরণের উপায় এবং দুর্বল যোগাযোগের ফলাফল

সক্রিয় শ্রবণ

ভালো যোগাযোগকারীগণ ভালো শ্রোতাও বটে। সেজন্য, ভালো যোগাযোগ করার জন্য মডেল মেডিসিন শপের ডিসপেন্সারকে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা উচিৎ।

  • গ্রাহকের কথা শুনতে বাধা হতে পারে এমন কাজগুলো থেকে মনকে মুক্ত করুন, যেমন – ফোনে কথা না বলা, টিভি বা রেডিওর শব্দের মাত্রা কমিয়ে দেয়া, মোবাইল ফোন নিরব করে রাখা ইত্যাদি;
  • যিনি বলছেন তার মুখোমুখি দাঁড়ান;
  • বক্তার প্রতি আপনার পূর্ণ মনোযোগ দিন;
  • অঙ্গভঙ্গি বা কথোপকথনবিহীন যোগাযোগের মাধ্যমে বক্তাকে আপনার পূর্ণ মনোযোগের ব্যাপারে নিশ্চিত করুন। যেমন-মাথা নাড়ানো, সোজা হয়ে বসা ইত্যাদি;
  • চোখে চোখ রাখার চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব;
  • আপনি যা শুনছেন সে ব্যাপারে দ্রæত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন না;
  • বক্তার কথা শেষ হওয়ার আগেই তাকে থামাবেন না;
  • পরামর্শ (ঈড়ঁহংবষষরহম) প্রদানের সময় গোপনীয়তা বজায় রাখুন।

কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধাঃ

  • জটিল মেডিকেল পরিভাষা ব্যবহার করা;
  • আশেপাশে শব্দ হওয়া;
  • গোপনীয়তার অভাব;
  • ডিসপেন্সারের মনোযোগের অভাব;
  • রোগী/গ্রাহকের জন্য বোধগম্য সহজ ভাষায় কথা বলতে না পারা;
  • ডিসপেন্সারের অস্থির মনোভাব;
  • রোগী/গ্রাহকের কানে শোনার সমস্যা;
  • সংবেদনশীল বিষয়গুলো আলাপের ক্ষেত্রে রোগী/গ্রাহকের অনীহা;
  • রোগী/ গ্রাহক কর্তৃক ভুল তথ্য প্রদান;
  • অন্ধ বিশ্বাস বা কুসংস্কার;
  • অস্থিরতা বা অধৈর্য্য হওয়া;
  • মেডিকেল তথ্যের বিতর্কিত উৎসের তথ্য ব্যবহার;
  • রোগী/গ্রাহক ও ডিসপেন্সারের মাঝে শারীরিক বা অন্য কোন বাধা;
  • রোগ সম্বন্ধে রোগী/গ্রাহকের ভীতি;
  • অমনোযোগী থাকা;
  • ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বাধা বা পার্থক্য;
  • রোগী/গ্রাহক যে সকল ওষুধ ব্যবহার করছেন তার প্রভাব;
  • রাগান্বিত রোগী/গ্রাহক এবং ডিসপেন্সার;

কার্যকর যোগাযোগের বাধা দূরীকরণের উপায়ঃ

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগের ভ‚মিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ ডিসপেন্সিং এর ক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগের বাধাসমূহ দূর করার জন্য ডিসপেন্সারের নিম্নিলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা উচিৎ।

  • রোগীর সাথে আলাপ করার সময় সৌজন্যমূলক আচরণ করা যেমন স্মিত হাসি দেয়া;
  • আপনি খুব ব্যস্ততার মধ্যে আছেন এমন মনোভাব প্রকাশ না করা;
  • রোগী/গ্রাহকের সমস্যা এবং উদ্বেগের কথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা;
  • চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা/ শোনা;
  • রোগী/গ্রাহককে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা;
  • রোগী/গ্রাহককে সবকিছু খুলে বলার মত উপযুক্ত পরিবেশ ও গোপনীয়তা প্রদান করা যাতে তিনি সহজ হতে পারেন;
  • কোন বক্তব্যের অর্থ পরিষ্কার বুঝতে না পারলে রোগী/গ্রাহককে আবার বুঝিয়ে বলা;
  • রোগী/গ্রাহককে চিকিৎসার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে বলা।

দুর্বল যোগাযোগের ফলাফলঃ

  • রোগী/গ্রাহকগণ নির্দেশনাসমূহের বিষয়ে সন্তুষ্ট নাও হতে পারেন। ফলে সেগুলো সঠিকভাবে মেনে চলার ক্ষেত্রেও অনীহা দেখা যেতে পারে;
  • বার্তাগুলো সঠিক না হলে রোগী/গ্রাহক ওষুধসমূহ সঠিকভাবে সেবন নাও করতে পারেন;
  • রোগী/গ্রাহক অতিরিক্ত মাত্রায় বা প্রয়োজনের চেয়ে স্বল্প মাত্রায় ওষুধ সেবন করতে পারেন;
  • মেডিসিন শপের উপর বা তার কর্মীদের উপর আস্থা হারাতে পারেন;
  • মেডিসিন শপের আয়/উন্নতি কমে যেতে পারে;
  • দুর্বল পরামর্শের কারণে রোগী ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারেন।