Course Content
মডিউল-১
মডিউল-১, সেশন-২ঃ ফার্মাসিস্ট কোড অব ইথিকস এবং মডেল মেডিসিন শপে গ্রেড ‘সি’ ফার্মাসিস্টদের (ফার্মেসি টেকনিশিয়ান) দায়িত্ব ও কর্তব্য
0/2
মডিউল-২
0/27
মডিউল-৪
0/21
মডিউল-৪, সেশন-৩ঃ ওষুধ প্রয়োগের পথ
0/8
মডিউল-৫
মডিউল-৫, সেশন-২ঃ শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই ক্রেতার নিকট বিক্রয়যোগ্য ওষুধসমূহ (Prescription Only Medicines)
0/13
মডিউল-৭
মডিউল-৭, সেশন-২ঃ এ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকর হওয়া যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে
0/7
মডিউল-৮
মডিউল-৮, সেশন-২ঃ করোনা সংক্রমণকালীন নিরাপদ ওষুধ ডিসপেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ
0/12
Private: Training Manual for Grade C Pharmacy Technicians
About Lesson

সিলভার সালফাডায়াজিন ক্রিম

সিলভার সালফাডায়াজিন ক্রিম

আগুনে পোড়া ত্বকের ক্ষতে সিলভার সালফাডায়াজিন ক্রিম নামক কেমোথেরাপিউটিক উপাদান ক্ষতের সংক্রমণ সারানোর এবং প্রতিহত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। সিলভার সালফাডায়াজিন পোড়া ক্ষতে প্রয়োগ করলে তা ভেঙ্গে যায়, যার ফলে সিলভার আয়ন ধীরে ধীরে বের হতে থাকে। এই সিলভার আয়নগুলো ব্যাকটেরিয়াল ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিডের সাথে যুক্ত হয় ফলে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং সংখ্যা বৃদ্ধিকে কমিয়ে দেয় কিন্তু ত্বকের কোষে কোন প্রভাব বিস্তার করে না। সিলভার সালফাডায়াজিন ক্রিম বিস্তৃত পরিধিতে কাজ করে এবং ক্ষতকে সংক্রমিত করতে পারে এমন সকল জীবাণুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যেমন- ই. কোলাই, সিউডোমনাস এরোজিনোসা, স্টেফাইলোককাস অরিয়াস, এবং কোন কোন প্রোটিয়েজ ও ক্লেবশিলা ইত্যাদি। এটি ক্যানডিডা এলবিকেনস সহ অন্যান্য ছত্রাকের বিরুদ্ধেও যথেষ্ট কার্যকর। এটি ক্ষতিগ্রস্থ বা মৃতটিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে। পোড়া ক্ষত সারানোর জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা সাধারণ সিস্টেমিক এন্টিবায়োটিকসমূহ সাধারণতঃ নেকরোটিক টিস্যুর ভিতরে ঢুকতে পারে না এবং পোড়াক্ষতে তার কার্যকারিতা সীমাবদ্ধ।

  • জীবাণু মারে, পোড়াক্ষত সারে;
  • পোড়া ক্ষত সারাতে খুবই কার্যকর;
  • সংক্রমণকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে;
  • দ্রুত সারানোর হার বাড়ায়;
  • চিকিৎসার সফলতা নিশ্চিত করে।

যে ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে

  • পোড়া ক্ষততে যেন সংক্রমণ হতে না পারে এবং দ্রুত সেরে যায়;
  • পায়ের আলসার বা চাপ জনিত ঘা ইত্যাদি স্বল্পকালীন সহযোগী চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ত্বকের গ্রাফটিং এর ক্ষত সাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসা হিসেবে;
  • কোন কারণে অনেক বিস্তৃত জায়গায় ত্বক ছিড়ে বা উঠে গেলে (Extensive Abbression);
  • আঙ্গুলে আগায় সংক্রমণ হলে সার্জারি না করে সিলভার সালফাডায়াজিন দিয়ে চিকিৎসা করা যায়;

ব্যবহারবিধি ও মাত্রা

পোড়া: পোড়া ক্ষতকে পরিষ্কার করে পুরো ক্ষতের ৩-৫ মি.মি. পুরু করে সিলভার সালফাডায়াজিন ক্রিমটি লাগাতে হবে। এটি সবচেয়ে ভাল ফল দিবে যদি হাতে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরে অথবা জীবাণুমুক্ত স্প্যাচুলা ব্যবহার করে প্রলেপটি দেয়া হয়। যেখানে প্রয়োজন সেখানে ক্রিমটি আবার ব্যবহার করতে হবে। যদি রোগীর নড়াচড়া বা ব্যক্তিগত কাজকর্মের জন্য কোন অংশ থেকে ক্রিম মুছে বা সরে যায় তবে সেক্ষেত্রেও আবার প্রয়োগ করতে হবে। পোড়া রোগীর ক্ষেত্রে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় অন্ততঃ একবার ক্রিমটি লাগাতে হবে। তবে যদি শরীর থেকে জলীয় অংশ বেশি বের হতে থাকে তখন ক্রিমটি আরো ঘনঘন লাগাতে হবে।

হাত পোড়া: পোড়া অংশে ক্রিম লাগিয়ে হাতটি একটি প্লাস্টিকের পরিষ্কার ব্যাগে ভরে কবজি পর্যন্ত বন্ধ করে রাখতে হবে এবং রোগীকে হাতের আঙ্গুল নাড়াচাড়া করতে বলতে হবে। ব্যাগে দেহ নিঃসৃত নিঃসরণ বেশ অনেকটা জমে গেলে ড্রেসিং পরিবর্তন করে দিতে হবে।

পায়ের ঘা এবং চাপজনিত ঘা: ঘায়ের গর্ত ক্রিম দিয়ে ভরাট করে দিতে হবে এবং পুরুত্ব কমপক্ষে ৩-৫ মি.মি. হতে হবে। এই ক্রিম সুস্থ ত্বকে বেশিক্ষণ লেগে থাকলে তার ক্ষতি করতে পারে তাই সতর্ক থাকতে হবে যেন সুস্থ ত্বকের উপর ক্রিমটি বেশিক্ষণ লেগে না থকে। এটি যাতে ভালো অংশে ছাড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিদিন ড্রেসিং পরিবর্তন করতে হবে তবে যদি ক্ষত থেকে নিঃসরণ কমে যায় তবে আরো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা যাবে। প্রতিবার ক্রিম লাগানোর আগে ক্ষত পরিষ্কার করে ও ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যু পরিষ্কার করে নিতে হবে। পায়ের চাপজনিত ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রস নিঃসরণ হতে থাকলে এই ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না।

আঙ্গুলের মাথায় আঘাতজনিত ক্ষত: ক্রিম প্রয়োগের পূর্বে রক্ত পড়া বন্ধ হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। সাধারণ ড্রেসিং ব্যবহার করা যাবে। অথবা, পানি নিরোধক আঠালো টেপ ব্যবহার করা যাবে। পরে সার্জিক্যাল গøাভস বা প্লাস্টিক ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ড্রেসিং প্রতি ২-৩ দিন পরপর পরিবর্তন করতে হবে।

যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না

অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে এই ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। জীবনের ঝুঁকি না থাকলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না।

সতর্কতা

যাদের সালফোনামাইডে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা আছে তাদের ক্ষেত্রে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে যেহেতু অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি আছে। যাদের জন্মগত গ্লূকোজ ৬ ফসফাটেজ ডিহাইড্রোজিনেজ এনজাইমে ঘাটতি আছে তাদের রক্তের কণিকা ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বিস্তৃত জায়গা পুড়ে গেলে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে। লিভার বা কিডনি যদি কার্যকারিতা হারাতে থাকে তবে সেক্ষেতেও প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। শরীরের অনেকটা পুড়ে গেলে তা এই ক্রিম ব্যবহার করে ঢেকে রাখলে রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা পযর্বেক্ষণ করতে হবে কারণ শ্বেতকণিকার সংখ্যাও কমে যেতে পারে।

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘদিন ধরে এই ক্রিম ব্যবহারে রক্তে সালফোনামাইডের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এর ব্যবহার

গর্ভাবস্থায়: যেহেতু সালফোনামাইড সহযোগে চিকিৎসা কার্নিকটেরাসের ঝুঁকি বাড়ায় সেজন্য গর্ভের শেষ পর্যায়ের মহিলাদেও ক্ষেত্রে এই ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়।

শিশু: ১ বছরের কম/অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে বা শিশুর দুই মাস বয়স পর্যন্ত ব্যবহার করা উচিত নয়।

সংরক্ষণ

শুকনো এবং শীতল স্থানে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

Exercise Files
No Attachment Found
No Attachment Found