মডিউল-১

মডিউল-১, সেশন-২ঃ ফার্মাসিস্ট কোড অব ইথিকস এবং মডেল মেডিসিন শপে গ্রেড ‘সি’ ফার্মাসিস্টদের (ফার্মেসি টেকনিশিয়ান) দায়িত্ব ও কর্তব্য

মডিউল-২

মডিউল-৪

মডিউল-৪, সেশন-৩ঃ ওষুধ প্রয়োগের পথ

মডিউল-৫

মডিউল-৫, সেশন-২ঃ শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই ক্রেতার নিকট বিক্রয়যোগ্য ওষুধসমূহ (Prescription Only Medicines)

মডিউল-৭

মডিউল-৭, সেশন-২ঃ এ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকর হওয়া যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে

মডিউল-৮

মডিউল-৮, সেশন-২ঃ করোনা সংক্রমণকালীন নিরাপদ ওষুধ ডিসপেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ

লেসন-১১ঃ সালবিউটামল ট্যাবলেট/ সিরাপ

সালবিউটামল ট্যাবলেট/ সিরাপ

সালবিউটামল ট্যাবলেট/ সিরাপ

সালবিউটামল একটি বিটা ২ এড্রেনোরিসেপটর কার্যক্রমে সহায়তাকারী ওষুধ যা মাংসপেশীকে শিথিল করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে ফুসফুসের ব্রংকিউলসের মাংসপেশী, ইউটেরাস বা জরায়ুর মাংসপেশী ইত্যাদি। এটি একটি প্রাধান্যপূর্ণ বিটা-২ এড্রেনোরিসেপটর কার্যকারিতা সম্পন্ন সিমপাথোমাইমেটিক ওষুধ যা ফুসফুসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নালীর মাংসপেশীকে আলাদাভাবে সম্প্রসারিত করতে পারে। এটি হৃদযন্ত্রের রিসেপ্টরগুলোর উপর কোন প্রভাব বিস্তার করে না। এটি এন্টিএলার্জিক হিসেবে মাস্টসেলের উপর কাজ করে এবং হিস্টামিন নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

কখন ব্যবহার করা যাবে

সালবিউটামল সাধারণতঃ হাপানী, ক্রনিক ব্রংকাইটিস, বুকে ব্যথা এবং বুকে চাপ দিয়ে শ্বাস কষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এটি সময়ের আগে প্রসব বেদনা শুরু হলে সেক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়।

সেবনবিধি ও মাত্রা

১২ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে : ০.৫ – ১ টি ট্যাবলেট (২-৪ মি.গ্রা) অথবা ১-২ চা চামচ ৩-৪ বার প্রতিদিন। এইভাবে সর্বোচ্চ ৮ মি.গ্রাম পর্যন্ত সেবন করা যেতে পারে।
৬-১২ বছর : ০.৫ ট্যাবলেট ২ মি.গ্রা অথবা ১ চা চামচ ৩-৪ বার প্রতিদিন।

২-৬ বছর : ১-২ মি.গ্রা অথবা ০.৫ – ১ চা চামচ দিনে ৩-৪ বার। অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য।

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া

কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে স্কেলেটাল মাংসপেশীর দূর্বলতার জন্য হাত কাঁপার (মৃদু) মত ঘটনা দেখা যায়। পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সাধারণতঃ ওষুধের মাত্রার সাথে সম্পৃক্ত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সালবিউটামল সেবনে মাংসপেশীতে এক ধরনের উদ্দীপনা দেখা যায় যা মুলতঃ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। যাদের হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপ আছে বা যারা হার্টের মাংশপেশীর দূর্বলতায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যদি কোন বিকল্প চিকিৎসা থাকে তবে এটি পরিহার করাই শ্রেয়।

যে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না

বিটা রিসেপটরের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহার করা যাবে না। যাদের সালবিউটামলে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা আছে তাদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে না।

সতর্কতা

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে কারণ ছাড়া এটি ব্যবহার না করাই ভালো। যাদের থাইরোটক্সিকোসিস নামক থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রেও এটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

অন্যান্য ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া

সালবিউটামলের পাশাপাশি অন্য কোন সিমপ্যাথোমাইমেটিক ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ তা হৃদযন্ত্রের উপর সাংঘাতিক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। যে সকল রোগীদের মনো-অ্যামাইনো অক্সিডেজ ইনহিবিটর যেমন : আইসোকার্বোক্সাজিড, ফেলেলজিন ইত্যাদি অথবা ট্রাইমক্সিল এন্টি ডিপ্রেসেন্ট (অ্যামিট্রিপটাইলিন, নরট্রিপটাইলিন ইত্যাদি) সহযোগে চিকিৎসা করা হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে সালবিউটামল সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত কারণ এই সকল ওষুধ সালবিউটামলের হৃদযন্ত্রের উপর যে প্রভাব তা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিটা রিসেপটরের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ একে অপরের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। যেহেতু সালবিউটামল সিরাম পটাসিয়াম কমায় তাই অন্য কোন সিরাম পটাসিয়াম কমানোর ওষুধের সাথে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

সংরক্ষণ

সকল প্রকার ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। আলো থেকে দূরে, শুষ্ক এবং শীতল স্থানে রাখুন।