মডিউল-১

মডিউল-১, সেশন-২ঃ ফার্মাসিস্ট কোড অব ইথিকস এবং মডেল মেডিসিন শপে গ্রেড ‘সি’ ফার্মাসিস্টদের (ফার্মেসি টেকনিশিয়ান) দায়িত্ব ও কর্তব্য

মডিউল-২

মডিউল-৪

মডিউল-৪, সেশন-৩ঃ ওষুধ প্রয়োগের পথ

মডিউল-৫

মডিউল-৫, সেশন-২ঃ শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই ক্রেতার নিকট বিক্রয়যোগ্য ওষুধসমূহ (Prescription Only Medicines)

মডিউল-৭

মডিউল-৭, সেশন-২ঃ এ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকর হওয়া যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে

মডিউল-৮

মডিউল-৮, সেশন-২ঃ করোনা সংক্রমণকালীন নিরাপদ ওষুধ ডিসপেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ

লেসন-১০ঃ রেনিটিডিন (Ranitidine) ট্যাবলেট

রেনিটিডিন (Ranitidine) ট্যাবলেট

রেনিটিডিন (Ranitidine) ট্যাবলেট

রেনিটিডিন H2 রিসেপ্টরকে অকার্যকর করার শ্রেনীভুক্ত একটি ওষুধ। এটি আপনার পাকস্থলীতে এসিড নিঃস্বরনের মাত্রা কমায় এবং নিম্নলিখিত চিকিৎসাসমূহে ব্যবহৃত হয়:

  • পাকস্থলী ও ডিওডেনালের আলসার (ক্ষত) চিকিৎসায়;
  • এ সকল আলসার থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে;
  • পাকস্থলীর সংক্রমণকে পরিষ্কার করার জন্য এন্টিবায়োটিক সহযোগে;
  • খাদ্যনালীতে এসিডজনিত সমস্যা দূর করতে (যেমন- রিফ্লাক্স ইসোফেজাইটিস);
  • যে সকল অবস্থায় গ্যাসট্রিন হরমোন বেশি নিঃসৃত হয় এমন অবস্থায় চিকিৎসায় (যেমন- জলিংজার ইলিউসন সিনড্রোম);
  • খাদ্যনালীতে (Oesophagus) এসিডজনিত সমস্যাকে বন্ধ করতে এবং সারাতে বা পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড কমাতে। উক্ত উভয় অবস্থাতেই ব্যথা এবং অস্বস্তি অনুভুত হয় যাকে বদহজম, বুকে জ্বালাপোড়া বা ডিসপেপসিয়া বলে;
  • অন্য ওষুধ সেবনে সৃষ্ট পাকস্থলীর আলসার প্রতিহত করতে বা যাতে না হয় সেজন্য;
  • অপারেশন চলাকালে অজ্ঞান থাকাকালীন যাতে পাকস্থলী থেকে এসিড উপরে আসতে না পারে সেজন্য।

সতর্কতা

যদি আপনি রেনিটিডিন বা এর অন্য কোন উপাদানের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল থাকেন তবে সতর্কতা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। রেনিটিডিন ব্যবহারে বিশেষ যত্ন নিন। যদি আপনার নিচের কোন একটি সমস্যা থাকে তবে রেনিটিডিন সেবনের পূর্বে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন:

  • যদি আপনার পাকস্থলীতে ক্যানসার থাকে;
  • কিডনিতে সমস্যা থাকলে হয়ত আপনাকে ভিন্ন মাত্রায় ওষুধ সেবন করতে বলা হবে;
  • যদি আপনার পাকস্থলীর আলসার থাকে এবং ব্যথার ওষুধ (NSAID) সেবন করছেন, যেমন- এসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন;
  • আপনার বয়স যদি ৬৫ বছরের বেশি হয়;
  • আপনার যদি ফুসফুসের রোগ থাকে;
  • আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে;
  • যদি আপনার রোগ প্রতিরোধ (Immune) ব্যবস্থায় কোন সমস্যা থাকে;
  • আপনার পরফাইরিয়া নামক বিরল রোগ থাকে।

উপরের কোন অবস্থা আপনার জন্য প্রযোজ্য তা যদি আপনি নিশ্চিত না থাকেন তবে ওষুধ সেবনের পূর্বেই আপনার চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সাথে আলাপ করুন।

কখন ব্যবহার করা যাবে না

দয়া করে আপনার চিকিৎসককে জানান, আপনি বিগত ১-২ মাসের মধ্যে অন্য কি কি ওষুধ খেয়েছেন এমনকি OTC ওষুধ সেবন করে থাকলে তাও জানান। বিশেষ করে নিম্নের কোন ওষুধ এর মধ্যে সেবন করে থাকলে রেনিটিডিন ব্যবহারে তাদেও কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। যেমন:

  • কিটোকোনাজল (ছত্রাকবিরোধী ওষুধ);
  • এইচআইভি-র চিকিৎসায় ব্যবহার্য ওষুধ : এটাজানাভির ডেলাভিরিডাইন ইত্যাদি;
  • জেফিটনিব (একটি ক্যান্সার নিরোধী ওষুধ);
  • নিদ্রা আনয়নকারী ওষুধ: ট্রায়াজোলাম, মিডাজোলাম। মিডাজোলাম আপনাকে অপারেশনের পূর্বে দেয়া হতে পারে। আপনার চিকিৎসককে জানান যে, আপনি রেনিটিডিন সেবন করছেন যদি উনি আপনাকে অপারেশনের পূর্বে মিডাজোলাম দেবার কথা বলেন;
  • গ্লিপিজাইড (ডায়াবেটিসের ওসুধ);
  • লিডোকেইন (অবশ করার জন্য স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়);
  • থিয়োফাইলিন (হাপানী রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়);
  • ফেনাইটইন (মৃগী বা এপিলেপসি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়);
  • প্রোপানলল (উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়);
  • এন্টাসিডস (যে ওষুধ পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করে এবং কমায়);
  • প্রোকেইনামাইড : অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের জন্য;
  • রক্ত জমাট বাধা প্রতিহত করে : ওয়ারফেরিন;
  • ব্যথানাশক (NSAID) যেমন – এসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন;
  • ডায়াজিপাম : দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ।

আপনি যদি নিশ্চিত না হন এর কোনটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা তবে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থায় ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়

যদিও রেনিটিডিন কোন সমস্যা করার কথা নয়, তথাপি আপনি যদি গর্ভধারণ করে থাকেন বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরিকল্পনা করে থাকেন, তা আপনার চিকিৎসককে জানাতে ভুলবেন না।

সেবনবিধি ও মাত্রা

কিভাবে রেনিটিডিন গ্রহণ করবেন

সকল সময়ই কেবলমাত্র আপনার চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী রেনিটিডিন সেবন করুন। নিশ্চিত না থাকলে আপনার চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের নিকট থেকে জেনে নিন । রেনিটিডিন খাবারের আধ ঘণ্টা আগে খেয়ে নেয়া উচিত।

মুখে খাওয়ার নির্দেশনা

পূর্ণ বয়ষ্ক এবং ১২ বছরের অধিক বয়সী শিশু : সাধারণ মাত্রা হল ১৫০ মি.গ্রা. প্রতিদিন দুই বার।

৩-১২ বছরের শিশু : ২-৪ মি.গ্রা. প্রতি কেজি (সর্বোচ্চ ১৫০ মি. গ্রা.) দিনে ২ বার।

মাংশপেশীতে ইনজেকশন হিসেবে : ৫০ মি.গ্রা. প্রতি ৬-৮ ঘণ্টা অন্তর অন্তর।

শিরাপথে : পূর্ণবয়ষ্ক ও ১২ বছরের অধিক শিশুদের ক্ষেত্রে ৫০ মি.গ্রা. ২০ মিলি পানিতে মিশিয়ে শিরাপথে ধীরে ধীরে অন্ততঃ দুই মিনিট ধরে দিতে হবে। এটা ৬-৮ ঘণ্টা পরপর পুনরায় বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হতে পারে। বিস্তারিত দিকনির্দেশনার জন্য আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

৩ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে রেনিটিডিন ব্যবহার করা হয়

পাকস্থলীর আলসার বা ক্ষতকে সারিয়ে তোলার জন্য, অথবা পাকস্থলী/ অন্ত্রের যে অংশে খাদ্যকে হজমের পরবর্তী ধাপের জন্য উদগীরণ করে (ডিওডেনাম), খাদ্যনালীর এসিডজনিত সমস্যাকে (Oesophagus) সারিয়ে তোলে এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণ বন্ধ করে। এ সকল সমস্যার কারণে পেটে যে ব্যথা বা অস্বস্তির সৃষ্টি হয় তাকে বদহজম, বুক জ্বালা বা ডিসপেপসিয়া বলা হয়।

আপনি যদি মাত্রাতিরিক্ত রেনিটিডিন সেবন করে ফেলেন তবে করণীয়

সবারই উচিত চিকিৎসক যে পরিমাণ রেনিটিডিন যেভাবে সেবন করতে বলেছেন তা সঠিকভাবে মেনে চলা, সাধারণত কেউ তার চেয়ে অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে ফেললেও তা খুব একটা বিপদজনক হওয়ার কথা নয়। যদি না তিনি পাশাপাশি আরো অন্য বেশি কিছু ওষুধ সেবন করে থাকেন। এমতাবস্থায় কখনো দেরি করবেন না। আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে কি করণীয় জেনে নিন অথবা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সাথে দ্রæত যোগাযোগ করুন।

আপনি যদি রেনিটিডিন সেবনের কথা তুলে গিয়ে থাকেন, তবে-

আপনি যদি ১টি ডোজ ভুলে গিয়ে থাকেন, তবে মনে পড়ার সাথে সাথেই তা সেবন করুন। যদি পরবর্তী ডোজের সময় নিকটবর্তী হয় তবে ভুলে যাওয়া ডোজটি বাদ দিয়ে দিন। একত্রে দ্বিগুণ ওষুধ সেবন করবেন না।

যদি আপনি রেনিটিডিন খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে থাকেন, তবে-

আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত রেনিটিডিন সেবন করা বন্ধ করবেন না। কেবলমাত্র আপনি আগের চেয়ে ভালো বোধ করছেন বলেই এটি সেবন বন্ধ করা উচিত নয়। কারণ তাতে করে সমস্যাটি পুনরায় ফিরে আসতে পাারে এমনকি পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। আপনার যদি এই ওষুধ সেবনের আরো কিছু জানার থাকে তবে আপনার চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন।

সতর্কতা

রেনিটিডিন কখনো এন্টাসিড জাতীয় ওষুধের সাথে/পাশাপাশি সেবন করা উচিত নয়। এই দুটি ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে ২ ঘণ্টার ব্যবধান থাকা উচিত।

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াসমূহ

কাক্সিক্ষত উপকারিতার পাশাপাশি এই ওষুধটি কিছু অনাকাক্সিক্ষত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। অধিকাংশ লোকই এটি সেবনে কোন সমস্যায় পড়েন না। স্বল্প সংখ্যক লোক কিছু কিছু ওষুধের প্রতি সংবেদনশীল বা এলার্জিক হয়। যদি এই ওষুধটি সেবনের পরপর নিম্নের সমস্যাগুলোর কোন একটি বা কয়েকটি দেখা দেয় তবে সাাথে সাথে সেবন বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যেমন :

  • হঠাৎ করে বুকে সাঁ সাঁ শব্দ অথবা বুকে চাপ চাপ ভাব অনুভব করা;
  • চোখের পাতা, ঠোট বা মুখ ফুলে উঠা বা ত্বকে চাকা হওয়া।

নিম্নের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াগুলোর কোন একটি দেখা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন-

  • ত্বকে লাল দাগ বা র‌্যাশ (Rash);
  • জন্ডিস;
  • সন্দেহ দেখা দিলে।

যদি এর কোন একটি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া জটিল আকার ধারণ করে বা বেশ কয়েকদিন থেকে চলতে থাকে অথবা এমন কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় যা লিফলেটে বর্ণিত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার তালিকায় নেই তবে দ্রুত আপনার চিকিৎসকের সাথে আলাপ করুন।

সংরক্ষণ বিধি

শীতল ও শুষ্কস্থানে আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।