মডিউল-১

মডিউল-১, সেশন-২ঃ ফার্মাসিস্ট কোড অব ইথিকস এবং মডেল মেডিসিন শপে গ্রেড ‘সি’ ফার্মাসিস্টদের (ফার্মেসি টেকনিশিয়ান) দায়িত্ব ও কর্তব্য

মডিউল-২

মডিউল-৪

মডিউল-৪, সেশন-৩ঃ ওষুধ প্রয়োগের পথ

মডিউল-৫

মডিউল-৫, সেশন-২ঃ শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই ক্রেতার নিকট বিক্রয়যোগ্য ওষুধসমূহ (Prescription Only Medicines)

মডিউল-৭

মডিউল-৭, সেশন-২ঃ এ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকর হওয়া যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে

মডিউল-৮

মডিউল-৮, সেশন-২ঃ করোনা সংক্রমণকালীন নিরাপদ ওষুধ ডিসপেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ

লেসন-১ঃ ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া

ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (Side Effects)

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হলো উপযুক্ত ডোজে কোন ওষুধ সেবন করলে তা রোগ নির্মূলের পাশাপাশি শরীরের উপরে অতিরিক্ত কিছু প্রভাব ফেলে যা অনাকাক্সিক্ষত হলেও অস্বাভাবিক নয় (যেমন- ক্লোরফেনিরামিন সেবনে রোগীর ঘুম পায়)। সকল ওষুধেরই পার্শ্ব- প্রতিক্রিয়া আছে, তা Prescription only ওষুধই হোক বা Over-the-Counter (OTC) ওষুধই হোক।

বিরূপ প্রতিক্রিয়া (Adverse Effects)

স্বাভাবিক ডোজের ওষুধ সেবনের ফলে কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া ঘটে থাকে তাকে ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া বলে।

ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া (Adverse Drug Reaction-ADR)

ওষুধ সেবনের ক্ষতিকর ফল যা কাক্সিক্ষত নয়। এটি সাধারণত স্বাভাবিক ডোজ ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রেই ঘটে তবে খুব স্বল্পসংখ্যক রোগী এ সমস্যার সম্মুখীন হন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে রোগী গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারেন। যেমন-

  • দীর্ঘমেয়াদী হাসপাতালে অবস্থান;
  • কোন অঙ্গের স্থায়ী ক্ষতি;
  • গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি;
  • মৃত্যু।

বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া

টাইপ-এ: উদ্দীপিত ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাব- ওষুধের ডোজ নির্ভর এবং ধারনাকৃত

যেমন- ইনসুলিন রক্তে গ্লূকোজ কমায়, রক্ত জমাট বাধা কমানোর ওষুধ সেবনে রক্তক্ষরণ বৃদ্ধি পেতে পারে, Opioid সেবনে ঘুম বৃদ্ধি পেতে পারে।

এগুলো সাধারণত গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করে না তবে বেশী ডোজের ওষুধ সেবনের ফলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটে থাকে অথবা অন্যান্য জটিলতা হতে পারে (যেমন- বংশগত কারণ, বয়স, কিডনি বা যকৃতের সমস্যা)।

টাইপ-বি: অদ্ভুত বা স্বক্রীয় প্রতিক্রিয়া-ওষুধের ডোজ নির্ভরশীল নয় এবং ধারনাকৃত নয়

এগুলো সাধারণত খুব কমক্ষেত্রে ঘটে এবং কখনো কখনো খুব অল্প ডোজ সেবন করলেও হতে পারে।

যেমন- ওষুধে এলার্জি, ত্বকে চাকা বা লালচে দাগ ফুটে উঠা (Skin Rash), তীব্র এলার্জির কারণে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হওয়া (Anaphylaxis), রক্ত কণিকাগুলো ধ্বংস হওয়া (Blood Dyscrasias)।

টাইপ-সি: দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনের ফলে হতে পারে (যেমন- NSAID বা ব্যাথানাশক – কিডনিতে Analgesic Nephropathy)।

টাইপ-ডি: বিলম্বিত প্রভাব

যেমন- Thalidomide ব্যবহারে গর্ভস্থ শিশুর উপর প্রভাব ফেলে এবং শিশু জন্মগত ত্রুটিসহ জন্ম নেয়, গর্ভাবস্থায় Stilbestrol- এর ব্যবহার ২০ বৎসরের বেশী সময় পর কন্যার যোনীপথে (Vagina) ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

টাইপ-ই: চিকিৎসা বা ওষুধ সেবনের শেষে প্রতিক্রিয়া

Opioid প্রত্যাহার, মৃগী রোগের ওষুধ, মানসিক চাপ কমানো ওষুধের ব্যবহার সম্মোহিত অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।

কিছু ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ

বিরূপ প্রতিক্রিয়া/ সমস্যা

যে ওষুধের জন্য হয়

অন্ত্রে রক্তক্ষরণ

ব্যাথানাশক (NSAID)

রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া

হরমোন জাতীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

কানে শুনতে সমস্যা ও কিডনিতে সমস্যা

অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড এন্টিবায়োটিক

পারকিনসনিজম

প্রথম জেনারেশনের মানসিক সমস্যার ওষুধসমূহ

এপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (রক্তকণিকা গঠিত না হওয়া)

ক্লোরামফেনিকল

এগ্রানুলোসাইটোসিস

ক্লোজাপাইন (মানসিক রোগের ওষুধ)

চুল পড়ে যাওয়া

ক্যান্সার বিনাশী ওষুধসমূহ